মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানো ‘মুহসিনা’র মানবেতর জীবন সামরিক জান্তার হাতে নির্মমভাবে খুন মা-বাবা স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি

0
33

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার হাতে ধর্ষিতা রোহিঙ্গা মুসলিম তরুণী মুহসিনার মানবেতর জীবন কাটছে জেলা সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। মা-বাবা, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি কেউ বেঁচে নেই। ৫ জনই মিয়ানমার সেনার হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতবাড়িটিও পুড়িয়ে দিয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের উগ্র গোষ্ঠীরা। সব হারিয়েও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া সহোদর ভাই খাইর আহমদের সাথে ‘আরকান’ নামে পাঁচ মাস বয়সী শিশুপুত্র নিয়ে সর্বহারা অনাথ ২১ জনের সঙ্গে ২৭ নবেম্বর ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতলী পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে লেদা ক্যাম্পে চলে আসেন মুসলিম নারী মুহসিনা। ২৯ নবেম্বর দুপুরে সরেজমিন লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তার সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

মুহসিনা জানান, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু টাউনশীপের আওতাধীন উত্তর জামবইন্যা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস শুক্কুরের স্ত্রী তিনি। আবদুস শুক্কুরের বাবার নাম ছৈয়দ আহমদ ও মায়ের নাম নুর জাহান বেগম। প্রায় ৩ সপ্তাহ আগে মিয়ানমার সেনা তাদের গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ৭ জন সেনার হাতে পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হন। গ্রামের দুই শতাধিক বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। মা, বাবা, স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি সকলকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পালাক্রমে ধর্ষণের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জীবিত থাকা আত্মীয়দের সহযোগিতায় বাংলাদেশে পাড়ি জমান। এখানে এসে চিকিৎসা করা হয়েছে এবং চলছে। বাংলাদেশে এসে স্বস্তিবোধ করলেও তিনি খাবার, বাসস্থান, পোশাক, শীতের কাপড়ের সংকটে রয়েছেন বলে জানান।

লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ডাঃ দুদু মিয়া জানান, মুহসিনা ছাড়াও মিয়ানমার সেনার হাতে ধর্ষণের শিকার আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী প্রথমে লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিলেও পরবর্তীতে শামলাপুর এবং কুতুপালং চলে গেছে। তাদের নাম-ঠিকানা সংরক্ষণ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকারী বা বেসরকারীভাবে কোন রেশন ব্যবস্থা নেই। এমনিতেই নিজেদের বেহাল অবস্থা। এর উপর নতুন করে আরও প্রায় ২ হাজার রোহিঙ্গার চাপে বিশেষত খাবার সংকটে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। তাছাড়া মিয়নানমারের সামরিক জান্তার অব্যাহত নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রতিদিনই ঢুকছে রোহিঙ্গা। ২৯ নবেম্বর এক দিনে শুধু লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই আরও শতাধিক রোহিঙ্গা ঢুকেছে। এদের জন্য সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোন সাহায্য-সহযোগিতা এখনও পর্যন্ত আসেনি।

তবে সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, ধর্ষিতা মুহসিনাসহ আরও কিছু রোহিঙ্গা নারী-শিশু-পুরুষ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘এ’ ব্লকে ডাঃ কবিরের আশ্রয়ে রয়েছেন। ডাঃ কবির জানান, এরা তার আত্মীয় নয়, এমনকি পরিচিতও নন। মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। মানুষের সাহায্য নিয়ে এদের জন্য কোনরকম খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের কুমিরখালী, শীলখালী, ঝিমংখালী, শনখলাপাড়া, নাকফুরা ইত্যাদি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এতদিন গ্রামগুলো অক্ষত ছিল। নাকফুরা গ্রামের প্রসিদ্ধ আলেমেদ্বীন মাওলানা নুরুল আলমের পুত্র হাফেজ মাওলানা আনাসকে (১৯) মিয়ানমার সেনারা প্রকাশ্যে গুলী করে হত্যা করেছে। তাছাড়া মুসলমানদের চাষাবাদের ধানের স্ত’প এবং ফিশারী ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র  dailysangram.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here