গুলশান হামলার আশ্রয়দাতার সঙ্গে ওঠেন মেজর জাহিদের স্ত্রী

গুলশান হামলার আশ্রয়দাতার সঙ্গে ওঠেন মেজর জাহিদের স্ত্রী

Views:
0

 

আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে মেজর জাহিদের স্ত্রীসহ তিন নারী জঙ্গিকে আটক করেছে পুলিশ। তারা গত মাসের ১ তারিখে বিডিআর-২ নম্বর গেইটের কাছের একটি বাসায় ব্যবসায়ি পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটি সেই আস্তানায় অভিযান চালায়।

 

আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিযান চলার সময় গোলাগুলিতে এক যুবক নিহত হয়। ধারণা করা হচ্ছে সে গুলশান হামলার আশ্রয়দাতা তৌহিদ করিম। এ ঘটনায় মেজর জাহিদের স্ত্রীসহ তিন নারী জঙ্গি এবং পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছে। এদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত নারী জঙ্গিরা হলেন- শারমিন, শাহেলা ও জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা।

 

ওই বাসা থেকে মেজর জাহিদের দুই শিশু সন্তান জুনায়েরা (৬) ও মারিয়াম (১) কেও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

 

জানা গেছে, মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের গুলিতে মেজর জাহিদুল নিহত হবার পর তার স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও তার সন্তানসহ আরও বেশ কয়েকজন জঙ্গি আজিমপুরে বিডিআর-২ নম্বর গেইটের কাছে ছয় তলা একটি বিল্ডিং ভাড়া নেয়। তারা ব্যবসায়ি পরিচয় দিয়ে ১৮ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে ওই বাসার দ্বিতীয় তলায় ওঠে।

 

লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী মতিউর রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বাবু ও মিজানুর রহমান আমাদের সময়কে জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেখেন এক নারী গুলি করতে করতে দৌড়াচ্ছেন। এসময় তার পেছনে ৬/৭ জন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পান। পরে পুলিশ সদস্যরা ওই নারীর পায়ে গুলি ছুঁড়লে তিনি ১০০ গজ দূরে গিয়ে পড়ে যান। পরে পুলিশ তার কাছে গেলে অতর্কিতভাবে ওই নারী সঙ্গে থাকা চাপাতি দিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে কোপ দেন। পরে স্থানীয় প্রায় ৫০/৬০ বাসিন্দা ওই নারীকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন।

 

এদিকে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়ির দ্বিতীয় তলায় গিয়ে গ্লাস ভাঙার শব্দ শুনতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন ড্রেসিং টেবিলের আয়না ভেঙে দুই নারী ও এক পুরুষ নিজেদের ক্ষতবিক্ষত করছেন। এদের মধ্যে ওই পুরুষ ঘটনাস্থালেই মারা যান। ওই পুরুষই গুলশান হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা করিম বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে পুলিশ ওই বাসা থেকে দুই নারী জঙ্গিকে রক্তাত্ত অবস্থায় আটক করে।

 

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, আজিমপুরের বাড়িটিকে পুলিশ ঘিরে দাঁড়ালে জঙ্গিরা বিস্ফোরক ছোড়ে। এতে তার দলের পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। তারা হলেন মাহতাব, জহিরুদ্দিন, রামচন্দ্র বিশ্বাস, লাভলু ও শাজাহান আলী।

সূত্র  dainikamadershomoy.com


Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Skip to toolbar