এমপি লিটন হত্যায় গ্রেফতার কে এই মাসুদ?

এমপি লিটন হত্যায় গ্রেফতার কে এই মাসুদ?

Views:
0

 

বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আহসান হাবীব মাসুদকে। তাকে গ্রেফতারের পরপরই স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে দলটির স্থানীয় নেতারা বলছেন, জেলা কিংবা থানা আওয়ামী লীগে দলীয় কোনও কোন্দল নেই। ব্যক্তিস্বার্থে কেউ যদি বিপথগামী হয়, সেই দায় দল নেবে না।

 

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাসুদ রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০০ সাল থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরে বসবাস শুরু করেন। স্ত্রী আঞ্জুমান আরাও স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা।

 

সুন্দরগঞ্জ অবস্থানের সময় আহসান হাবীব মাসুদ জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে দহরম-মহরম ছিল তার। ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এবং জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 

এরপরই ২০১০ সালে এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটনের ওপর দলবল নিয়ে হামলা চালান এই মাসুদ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন এমপি লিটন। ওই সময় গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি ছিলেন জাতীয় পার্টির কর্নেল (অব.) কাদের খান। লিটন ছিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লিটন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবকলীগে যোগ দেন এই মাসুদ। চেষ্টা চালাতে থাকেন এমপি লিটনের ঘনিষ্ঠভাজন হয়ে ফায়দা হাসিলের। কিন্তু লিটন তাকে তেমন পাত্তা দিতেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

 

স্থানীয়রা জানান, ২০১৫ সালের অক্টোবরে শিশু সৌরভের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এমপি লিটনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাসুদও একজন। এছাড়া স্থানীয় জামায়াত-শিবির, জাতীয় পার্টির কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনও ছিলেন।

 

বিভিন্ন সময় এমপি লিটনের নাম ভাঙিয়ে মাসুদ সুবিধা আদায় ও নিয়োগবাণিজ্যের চেষ্টা করলে এমপি লিটন বেশ ক’বার মারধরের চেষ্টা করেন। কিন্তু উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যস্থতায় এমপি লিটনের রোষানল থেকে ছাড়া পান মাসুদ। এছাড়া শুরু থেকেই মাসুদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করতো বলে স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়।

 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি নেতা মাসুদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। এমপি লিটন হত্যাকাণ্ড তদন্তে পুলিশ ও তদন্তকারীরা যাকে প্রয়োজন মনে করবেন, তাকেই ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এই অধিকার তারা রাখেন।’ দলীয় কোন্দলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে কোনও কোন্দল নেই। কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনও অপরাধে জড়ালে, সেই দায় দল বহন করবে না।’

 

উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ এলাকায় নিজ বাড়িতে দৃর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় লিটনের ছোট বোন তাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মাসুদসহ আটজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে। এছাড়া ৪০জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

 

উৎসঃ   banglatribune

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Skip to toolbar