___________আওয়ামী লীগ একটি অভিশপ্ত দল ___________

___________আওয়ামী লীগ একটি অভিশপ্ত দল ___________

আমি আওয়ামীলীগ করতাম, কিন্তু এখন করি না। জীবন যৌবনের ৩২টি বছর আওয়ামীলীগে কাটিয়েছি। ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামীলীগ।
• আমি ছাত্রলীগের সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট ছিলাম।
• সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ কমিটির মেম্বার ছিলাম।
• দলের সংসদ সদস্য ছিলাম।
সেই দলটি ছেড়ে এসেছি এবং আমি সেই দলটিকে অভিশপ্ত দল এই কারণে বলেছি, এই আওয়ামীলীগ ২৩ জুন, ১৯৪৯ ঢাকার এয়ার মোহাম্মদ খানের বাড়ী রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।
• প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আওয়ামীলীগ করে মরতে পারেন নাই।

 

• দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক। বাড়ী টাঙ্গাইল। বিখ্যাত পন্নি পরিবারের খুররম খান পন্নিকে ১৯৪৯ সনের উপনির্বাচনে পরাজিত করেছিলেন। সেই সামসুল হক আওয়ামীলীগ করতে করতে পাগল হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। কোথায় মৃত্যুবরণ করেছেন আওয়ামীলীগ কোনো দিন খোঁজ নেয়নি।
• ৬ দফা দেওয়ার পরে আওয়ামীলীগের সমস্ত নেতারা যখন জেলে ছিলেন; তখন একজন ভদ্রমহিলা আওয়ামীলীগকে মায়ের আদর দিয়ে সারা বাংলাদেশে ঘুরে কর্মীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, উজ্জীবিত করেছিলেন তার নাম আমেনা বেগম। সেই আমেনা বেগম পর্যন্ত আওয়ামীলীগ করতে পারেননি।
• যিনি যৌবন কাটিয়েছেন কারাগারে, তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন আওয়ামীলীগকে এবং যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যিনি না হলে হয়তো বা মুক্তিযুদ্ধ এতো তরান্বিত হতো না, সেই জনাব তাজউদ্দিন আহমেদও কিন্তু আওয়ামীলীগ করে মরতে পারেননি।

 

• সিলেটের মানুষ, মহান সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি যিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৭০ সনে আওয়ামীলীগে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন তার নাম এমএজি ওসমানী। তিনিও কিন্তু শেষপর্যন্ত আওয়ামীলীগ করে মৃত্যুবরণ করতে পারেননি।
• ১৯৬২ সনে যখন আইয়ুবের আমলে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, শাহ্ মুয়াজ্জেম ছিলেন ছাত্রলীগের তখনকার প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট। শাহ্ মুয়াজ্জেম সাহেব আওয়ামীলীগ করতে পারেন নাই।
• তার পরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন উবায়দুর রহমান। তিনি বিএনপি করে মৃত্যুবরণ করেছেন।
• সিরাজুল আলম খান যাকে বলা হয় স্বাধীনতার রূপকার। ছাত্র যুবকদের মধ্যে যিনি স্বাধীনতার বীজ উজ্জীবিত করেছিলেন। আমি আমার অনামিকার আঙুল কেটে তার সামনে রক্ত-শপথ করেছিলাম তৎকালীন ইকবাল হল আজকের জহুরুল হলের সেই পুকুরের পাড়ে। সেই সিরাজুল আলম খান কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ করতে পারেননি।

 

• তারপরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জনাব মাজহারুল হক বাকী। গণফোরাম করেছেন এবং অজানা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
• জনাব আব্দুর রাজ্জাক যিনি দুই দুই বার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দুঃসহ বেদনা নিয়ে পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। আওয়ামীলীগ তার সঙ্গে যে নিষ্ঠুর দুর্ব্যবহার করেছে তা তুলনাহীন।
• তারপরে ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট জনাব ফেরদৌস আহমদ কোরেশী, তিনিও আওয়ামীলীগ করতে পারেননি।
• এরপরের প্রেসিডেন্ট জনাব আব্দুর রউফ গণফোরাম করে মৃত্যুবরণ করেছেন।
• খালেদ মোহাম্মদ সাহেদ সেক্রেটারি ছিলেন। তার খোঁজ নাই।
• ইয়াহিয়া খানের মার্শাল ল’র সময়ের প্রেসিডেন্ট তোফায়েল আহমদ। ১১ দফা আন্দোলনের মহানায়ক তোফায়েল এখন কোনমতে আছেন রবি ঠাকুরের সেই গানটির মতো।
• তার সাধারণ সম্পাদক জনাব আসম আব্দুর রব আওয়ামীলীগ করতে পারেন নাই।

 

• তারপরের প্রেসিডেন্ট জনাব নুরে আলম সিদ্দিকি; যার বক্তৃতায় পদ্মা, মেঘনা, যমুনার ঢেউ থেমে যেতো। সেই নুরে আলম সিদ্দিকি আজও জীবিত কিন্তু তিনি আওয়ামীলীগ করতে পারেন না।
• সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ আওয়ামীলীগ করতে পারেননি।
• স্বাধীনতার পরে প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ সহিদুল ইসলাম এখন জাতীয় পার্টি করেন।
• তার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ কোথায় আছে কেউ জানে না।
• তারপরের প্রেসিডেন্ট মনিরুল হক চৌধুরী বিএনপি করেন।
• সেক্রেটারি সফিউল আলম প্রধান, জাগপা করেন।
• ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পরে আমরা যারা ছাত্রলীগ করেছি তাদের নাম যদি আজকে বলি,সেই এমএ আওয়াল জাতীয়পার্টি করে মৃত্যুবরণ করেছেন।
• তার পরের প্রেসিডেন্ট উবায়দুল কাদের এখন একমাত্র ভাগ্যবান ব্যাক্তি।
• সাধারণ সম্পাদক বাহলুল মজনু চুন্নু হারিয়ে গেছেন।
• তারপরের প্রেসিডেন্ট জালাল সাহেব টীম টীম করে জ্বলছেন।
• জাহাঙ্গীর সাহেবের খোঁজ নাই।

 

• আমি ফজলুর রহমান আওয়ামী লীগ করছি না।
• আমার সাধারণ সম্পাদক বাহলুল মজনু চুন্নু, সেই সময় সবচেয়ে ত্যাগী নেতা মুকুল বোস ডিজিএফআই তাকে যেভাবে নির্মম অত্যাচার করেছে তার কোন তুলনা নাই। তিনিও এখন আর আওয়ামীলীগের কেউ নন।
• শুনলে অবাক হবেন, যাকে বলা হত আধুনিক জগতের ক্ষুদিরাম, যিনি ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর যুদ্ধ করে ফাঁসীর মঞ্চে গিয়েছিলেন তার নাম বিশ্বজিত নন্দী। তিনি এখন আর আওয়ামীলীগ করেন না।
• সিলেটের সন্তান ডাকসুর ভিপি, স্বাধীনতার পরে ছাত্রলীগের একমাত্র ডাকসুর ভিপি, ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট সিলেটের সেই সন্তান সুলতান মোহাম্মদ মনসুর কোথায়? কি করেন? কে জানে!
সেই কারণে আমি বলেছি আওয়ামীলীগ একটি অভিশপ্ত রাজনৈতিক দল। এর সন্তানেরা কেউ এই দলে থাকতে পারে না। এই দলে যারা নেতা হন তারা মনে করেন ইনি হলেন মাছের মা আর সব হল মাছ। একবার জ্যৈষ্ঠ মাসে ডিম পেড়ে দেন, আর পরের জ্যৈষ্ঠ মাসে মাছগুলো আর থাকে না।।

 

ছাত্রলীগের সাবেক প্রেসিডেন্ট
সাবেক সংসদ সদস্য
মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।


Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Skip to toolbar