বিয়ের আশ্বাসে বিধবাকে যুবলীগ নেতার ধর্ষণ, গর্ভপাত

0
91

ঠাকুরগাঁওয়ের ঢোলারহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে এক বিধবাকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ এবং পাঁচ মাসের ভ্রুন গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে গর্ভপাতে রক্তক্ষরণের কারণে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ওই বিধবা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের ওই বিধবার স্বামী সাত বছর আগে মারা যান। এ সুযোগে সহযোগিতার কথা বলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল হোসেন তিন বছর আগে ওই বিধবার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

বিভিন্ন সময়ে অবৈধ মেলামেশা করায় ওই বিধবা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে বাবুল তাকে গর্ভপাত ঘটানোর শর্ত দেন। সোমবার গৃহবধূর পাঁচ মাসের গর্ভের ভ্রুন ঢোলারহাট এলাকার এক গ্রাম্য ধাত্রী গর্ভপাত ঘটায়।

এতে ওই গৃহবধূর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে মঙ্গলবার বিকালে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন গুরুতর অসুস্থ গৃহবধূ।

ইউপি চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার বর্মন ওরফে নির্মল রাতে ওই বিধবাকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি গর্ভপাতের শিকার ওই বিধবার খোঁজ-খবর নেন।

ইউপি চেয়ারম্যান নির্মল বলেন, ধর্ষিত বিধবা তার ইউনিয়নের এলজিইডির রাস্তা তদারকি এলসিএস কর্মী। তার সঙ্গে কোনোরূপ অনাচার হয়ে থাকলে তিনি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নির্যাতিতা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বাবুল বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ তিন বছর তাকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে আসছে। সর্বশেষ তার গর্ভ পরীক্ষা করার নাম করে গর্ভপাত ঘটানো হয়।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, যুবলীগের নাম ভেঙে কেউ কোনো অপকর্ম করে থাকলে যুবলীগ তার দায়-দায়িত্ব নেবে না। আইনশঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে যুবলীগের কোনো আপত্তি থাকবে না।

রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি প্রদীপ কুমার রায় জানান, ঢোলারহাট ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বাবুলের বিরুদ্ধে এক বিধবার গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলা রুজু করা হবে।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা বাবুল গা-ঢাকা দিয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here