ছাত্রদলের সকল নক্ষত্রকে সেদিন শেষ করে দেয়া হয়েছিল

0
91

ছাত্রদলের সকল নক্ষত্রকে সেদিন শেষ করে দেয়া হয়েছিল

অভি যত অন্যায় করেছে তার শাস্তি আমিও চাই, কিন্তু তাকে নিয়ে মিথ্যার বেসারতী দেখে আমি সত্যি হতবাক। কিন্তু তাকে নিয়ে অসত্য লেখা পোষ্ট করা কতটা যৌক্তিক সে প্রশ্ন থেকেই যায়।


একজনের অনুপস্থিতিতে এটি তার এবং সার্বিকভাবে ছাত্রদল ও বিএনপির ইমেজ ক্ষুন্ন করেছে। গোলাম ফারুক অভি একজন সাবেক এমপি, কিন্তু বিনা ভোটের এমপি নয়, জনগনের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার সংসদ সদস্য থাকাকালীন উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ আসনে যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে তা তাকে তার অঞ্চলের মানুষের হ্নদয়ের মাঝে চির জাগরুক করে রাখবে।

অভির অনেক কর্মই আমি নৈতিকতার মানদন্ডে কখনো সমর্থন করি নাই। তবুও বলবো যারা অভিকে দেখেন নাই, তার বক্তৃতা শুনেননি, তার কোয়ালিটি অফ পলিটিক্স সম্পর্কে কোন ধারণা নেই; তাকে নিয়ে এ ধরনের লেখা কোনভাবেই বাঞ্চনীয় নয়। এমনকি অভির এলাকাতে তার জনপ্রিয়তা সম্পর্কে অনেকেরই কোন প্রকার ধারণা নেই। তার বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা আছে তার রায় সম্ভবত চূড়ান্ত হয়নি। সুতরাং একটি সাব জুডিস মেটার নিয়ে মন্তব্য করা মনে হয় কোনভাবেই ঠিক হবে না । সুতরাং ফেইস বুকে দেয়া লেখাটি এই মুহুর্তে অবশ্যই রিমোভ করা উচিত।

অভির গল্প তো হিন্দি সিনেমার একশনকেও যেন হার মানিয়েছে। আর আমার ফেইসবুক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা, অভিকে আমি যতটুকু চিনি সে জীবনে একটি মুরগী মারতে পেরেছে কিনা- এটিও আমার জানা নেই এবং বরিশাল জেলায় তার মতো একজন ভীতু লোক খুজে পাওয়া যাবে কিনা তাতে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কেননা সে যখন সোনারগাঁ রোডে অফিসে বসতো তখনো কোন ঝামেলা হলে- তার ফোনে অস্থির হয়ে আমি, কামরুজ্জামান রতন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত ছাত্রদল নেতা সাগীর, ঢাকা দক্ষিণের যুবদল নেতা(সভাপতি) বিসিসি আই রোডের হামিদ এবং সজল এরা সবাই গিয়ে তার ঝামেলা ভাঙ্গতে হয়েছে। বিপদে পরলেই বড় ভাই বাঁচান, তাড়াতাড়ি আসেন কত নাটক ও ঘটনা সে এমপি হওয়ার পরও আমাদেরকে এ ধরনের ঘটনা সামাল দিতে হয়েছে।

আর আজকে যারা এটি লিখেছেন তাদের জানা উচিত অভি যখন মুহসীন হলে তার এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে বেয়াদবির শাস্তি হিসেবে তাকে আমি এক মাসের জন্য দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। এটা অবশ্যই সত্য তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধির কোন অভাব ছিল না এবং সে আমাকে ও বাবলু ভাইকে সবসময় টেনশনে রাখতো। মাঝে মাঝে রতন আমাকে কমপ্লেইন করত: আমি অভিকে বেশী ভালবাসি তাকে কম আমি হাসতাম, সে ক্ষেপে গিয়ে বলত অভিকে পিটাব এবং একটু পরেই দেখতাম দু’বন্ধু একসাথে গলায় গলায় খাতির। যাই হোক অভির চেয়ে রতন,শফিক, সজল,মাসুদ, জুয়েল এবং তৎকালীন ছাত্রদলের শত শত সাহসী নেতা-কর্মী ছিলো। কিন্তু অভির বক্তৃতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, পরাশুনা জ্ঞানের পরিধি এবং নেত্রীর সাথে রাগ করে প্রথমে শেখ হাসিনার হাতে ফুল দিয়ে ছাত্রলীগে যোগদান এবং পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়া এই সব বিষয়ে তার সাথে আমার দ্বিমত ছিলো – কেননা এটি ছিলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মাহবুবুল হক বাবলু এবং ছাত্রদলের শত শত হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সাথে বেইমানি, যা আমাকে চরমভাবে অপমানিত ও দু:খ দিয়েছে এবং এদের সকলের পাপের শাস্তি আমাকে ভোগ করতে হয়েছে । কিন্তু আজকে আমার কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই, কেননা আমার জন্য যিনি করবেন তিনিই তো ছিলেন আমাদের মায়ের মতো, উনি এত দু:খের মাঝে যেখানে আকড়ে রাখবেন এবং এটিই ছিল যৌক্তিক ও স্বাভাবিক। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে পরে জানতে পারি, আমার জেলে থাকার কারণে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা আমার নামে শ্লোগানের অপরাধের শাস্তি এবং দলের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে নাকি আমাকে দল থেকে অপমানিত করে,মিথ্যা অভিযোগ এনে চিরকালের জন্য বিতারিত করেছেন এবং ক্ষমতায় থাকার সময়ে ডা: মিলন হত্যার এক নম্বর আসামী বানিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেন ও একদিনের মধ্যে এরশাদের দালাল বানিয়ে দেন। সত্যি কি বিচিত্র এ দেশ সেলুকাস। আমি আল্লাহ পাকের দরবারে ন্যায় বিচারের জন্য চব্বিশ বছর ধরে ধৈর্য ধরে বসে আছি এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকব। যাক, কারো সম্পর্কে কিছু না জেনে এ ধরনের মন্তব্য ও লেখা ঠিক না, এটি খুবই দু:খজনক।

Azam Hossin, নিশ্চয়ই আপনার জানা আছে অভি এসএসসি প্লেস (স্টান) করে ঢাকা কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সে যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার হয় তখনো তার ফার্স্টক্লাস মার্কস ছিল। এত প্রতিকূলতা ও জেল, জুলুম হুলিয়ার পরও এদেরকে যখন কোনভাবেই রোখা যাচ্ছিল না, তখনই এদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকেসহ ৯ জন ছাত্রদল নেতাকে বহিস্কার করা হয় যাতে বাবলু ভাইকে হত্যার পর, আমাদের আর কেউ যাতে করে রাজনীতিতে দাড়াতে না পারি। সে জন্যই প্রথমে আমাকে গ্রেফতার করে তিন বছরের জন্য জেলখানায় পাঠিয়ে দিয়ে এদের সবার প্রথমে ছাত্রত্ব কেড়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে দল থেকে বহিস্কার, এটি আমি গ্রেফতার হবার পূর্বেই ডিসাইড করা ছিল। যা আমাকে নেত্রীর ধানমন্ডির অফিসে ডেকে নিয়ে প্রথমে আমান, রিপন এবং দুদু ভাইয়ের উপস্থিততে নেত্রী আমাকে প্রপোজ করেন। প্রথমে ৫ জন ছাত্রদল নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারে রাজি করাতে ব্যর্থ হলে পরে ৩ জনকে বহিস্কার, (অভি,রতন, ইলিয়াস) আমি রাজী হইনি এবং পরবর্তীতে গ্রেফতার হলে, যেদিন অর্থাৎ আমার রিমাইন্ড শেষে সাত দিন পরে সরকার আমাকে জেলে পাঠিয়ে দিলে সকালে ঘুম থেকে উঠে দৈনিক পত্রিকায় দেখতে পাই, নীরুসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদলের ৯ জন এবং জাসদের ৩ জনকে মিলে মোট ১২ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। আসলে everybody was invited, ছাত্রদলের সকল নক্ষত্রকে সেদিন থেকে শেষ করে দেয়া হয়েছিল।

আমি শুধুই নেত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এরা আপনার সন্তানদের একজন হতে পারত। এরা আপনার জন্য জেল, জুলুম হুলিয়া এদের শিক্ষা জীবন সবই বিসর্জন দিয়েছে, এদের অপরাধ কি ? বাবলু ভাই, মাইনুদ্দিন এবং অনেকেই দলের জন্য জীবন দিল একটা কাজ করুন আমাকে সবার আগে দল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করে দেন তারপর সবার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। কেননা উনাকে বলার মতো আমার আর কিছুই ছিলো না। শুধুই এটুকুই বুঝেছি, রাজনীতি যারা করেন তারা নিজের স্বার্থের জন্য আপন সন্তানদেরও বলী দিতে পারেন। উনার কাছ থেকে আমি সকল প্রশ্নের উত্তর সেদিনই পেয়ে গেছি। অথচ আমার প্রাণপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমান এবং বাবলু ভাইয়ের ঋন পরিশোধের কথা মনে হলে সে সময় দশদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে না গেলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মলে ডাকসুর আমান-খোকন প্যানেলটি উনার একান্ত অনুরোধে যেতে বাধ্য হয়েছি শুধুই বিবেকের তাড়নায়। অথচ আমি উনার মিথ্যা আশ্বাস বুঝার পরও আমি ক্যাম্পাসে প্যানেল পরিচিতি সভায় গিয়ে এদেরকে জিতিয়ে আনি। শেষ পর্যন্ত তাই হলো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো দল থেকে বহিস্কার করেছেন। ধন্যবাদ নেত্রী, স্যালুট আপনাকে, আপনি সবই পারেন।

বিডি-প্রতিদিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here