​খরচ কম সাফল্য বেশি, তারপরও বাপেক্সকে দূরে রাখা হয় বারে বারে। একের পর এক কাজ দেয়া হয় বিদেশি মাফিয়াচক্রকে। কার স্বার্থে? 

0
80

খরচ কম সাফল্য বেশি, তারপরও বাপেক্সকে দূরে রাখা হয় বারে বারে। একের পর এক কাজ দেয়া হয় বিদেশি মাফিয়াচক্রকে। কার স্বার্থে? স্বাভাবিকভাবেই এ প্রশ্ন সামনে এসে যাচ্ছে।

বাপেক্সের চেয়ে সিনোপ্যাক দেড় গুণ বেশি খরচে এবং গ্যাজপ্রম প্রায় দুই গুণ বেশি খরচে কুপ খনন করে। অথচ সাফল্য বাপেক্সেরই বেশি।
রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম    নামে পরিচিত। এই আইনের অপব্যবহার করেই ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল টেন্ডার ছাড়াই গ্যাজপ্রমকে ১০টি কুপ খননের কাজ দেয়া হয়। এই ১০টি কুপের চুক্তিমুল্য ধরা হয় ৯ কোটি ৩২ লাখ ১৩ হাজার ৩শ’ ২১ ডলার। এরপর ২০১৫ সালের ৩১ এপ্রিল আরো ৫টি কুপ খননের কাজ দেয়া হয় গ্যাজপ্রমকে। এক্ষেত্রে চুক্তিমুল্য ধরা হয় ৯ কোটি ৬২ লাখ ২৯ হাজার ৩শ’ ৯৮ ডলার।
জানা গেছে, প্রথম দফায় গ্যাজপ্রমকে যে ১০টি কুপ খননের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো তাতে তারা অনভিজ্ঞতার পরিচয় দেয়। তাছাড়া গ্যাজপ্রম নিজেরা কুপ খনন করেও না। এরিয়েল নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্যাজপ্রম কুপ খননের কাজ করে থাকে। কিন্তু, এরিয়েল যথাযথ পদ্ধতিতে কুপ খনন করতে ব্যর্থ হয়। তারপরও গ্যাজপ্রমকে পরবর্তীতে আরো ৫টি কুপ খননের কাজ দেয়া হয় সম্পুর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিকভাবে।
রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম এবং চিনা সিনোপ্যাক- এই দু’টি বিদেশি কোম্পানিও ঠিকাদার হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু, বিদেশি প্রতিষ্ঠান দু’টি সরাসরি কুপ খনন কাজে অংশগ্রহণ করছে না, অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়ে কাজ করায় অর্থাৎ এতে তারা মধ্যসত্ত্বভোগীর ভুমিকা পালন করে। 
এতোসব সক্ষমতা, যোগ্যতার প্রমাণ রাখার পরও বাপেক্স নিয়ে নানান রকমের ষড়যন্ত্র চলছে এখনো। বাপেক্সের পরিবর্তে বিদেশি মাফিয়া কোম্পানিকে নতুন গ্যাসকুপ খননের কার্যাদেশ দেয়ার গোপন চেষ্টা চালানো হচ্ছে ।
 ৯টি কুপে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমকে দিতে হয়েছে ১ হাজার ৬৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২১ নম্বর কুপ খননে, ১৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আর সর্বোচ্চ ব্যয় ছিল তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২০ নম্বর কুপে, ২৮২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
বিদেশি কোম্পানির এই লুটপাটের সঙ্গে সরকারের প্রভাবশালী একটি মহল জড়িত। দায়মুক্তি আইনের ফাঁকে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাশিয়ান এই প্রতিষ্ঠানটিকে গত পাঁচ বছরে ১৫টি কুপ খননের ঠিকাদারি দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা ৯টি কুপ খনন সম্পন্ন করেছে। এ বাবদ খরচ হিসেবে সরকারের কাছ থেকে ১ হাজার ৬শ’ ৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা নিয়েছে। অথচ বাপেক্সকে দিয়ে খনন করানো হলে এতে সর্বোচ্চ খরচ হতো ৭শ’ ২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, এই ৯টি কুপ খনন বাবদ গ্যাজপ্রম সরকারের কাছ থেকে ৯৩৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here